Google information

More info click on value image

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব:

 হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব:


বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। তাদের প্রস্তাবগুলোতে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো সংখ্যালঘুদের অধিকতর সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।


রাষ্ট্রধর্ম সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ বাতিলের আহ্বান

সংগঠনটি সংবিধানের ২(ক) অনুচ্ছেদ, যেখানে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই অনুচ্ছেদ সংবিধানের মূল প্রস্তাবনায় উল্লেখিত ‘আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং সামাজিক সাম্য’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করে।


সংবিধানের মূল প্রস্তাব বহাল রাখার দাবি

ঐক্য পরিষদ সংবিধানের মূল প্রস্তাব হুবহু বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। তাদের মতে, এটি জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার, সমতা ও সুবিচার নিশ্চিত করে।


সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাব

সংগঠনটি সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, একটি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন এবং সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানিয়েছে। এ ছাড়া সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ হুবহু বহাল রাখার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেছে, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বৈষম্য দূর করতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন।


জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের প্রস্তাব

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদের পর নতুন দুটি অনুচ্ছেদ যোগ করা প্রয়োজন।

১. রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যেমন জাতীয় সংসদ, নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এবং সরকারি কর্ম কমিশনে সংখ্যালঘুদের উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

২. জাতীয় সংসদে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা।


ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা বজায় রাখার দাবি

সংগঠনটি সংবিধানের ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা’ শীর্ষক অনুচ্ছেদ অপরিবর্তিত রাখার পক্ষেও মত প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই অনুচ্ছেদ ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা বজায় রেখে সমগ্র জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে।


সংবিধান সংস্কার কমিশনের ভূমিকা

অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন অংশীজনদের মতামত গ্রহণ শুরু করেছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই কমিশন সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেবে।


এ উদ্যোগ দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

Top Stories