শারজাহতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: ম্যাচের বিশদ বিবরণ
শারজাহতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: ম্যাচের বিশদ বিবরণ
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম, যা কখনোই বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না, অবশেষে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের মুখে হাসি ফোটালো। এর আগে খেলা প্রতিটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা সঙ্গী হলেও, এইবার ভিন্ন ফলের সাক্ষী হলো শারজাহ। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে জয় প্রায় নিশ্চিত করেও হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে, তবে দ্বিতীয় ম্যাচে সেই ভুল আর হয়নি। আজকের ম্যাচে ৬৮ রানের জয়ে বাংলাদেশ সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে, যা তাদের জন্য শারজাহতে প্রথম জয়।
ব্যাটিংয়ে শান্ত ও জাকের আলীর ক্যামিও
টসে জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। যদিও শুরুটা কিছুটা ধীরগতির ছিল, তবে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করতে সক্ষম হন। তানজিদ তামিম দ্রুত ফিরে গেলে, সৌম্য সরকার ও শান্তর জুটি থেকে আসে ৭১ রান। সৌম্য ৩৫ রানে আউট হলেও অধিনায়ক শান্ত ফিফটি পূর্ণ করেন এবং মিরাজের সঙ্গে ৫১ রানের আরেকটি মূল্যবান জুটি গড়ে তোলেন।
বাংলাদেশের ইনিংসটি ১৭৪ রানে ৩ উইকেট থেকে দ্রুত ১৮৪ রানে ৬ উইকেট হয়ে যায়, যখন আফগানিস্তানের নানগালিয়ে খারোতের আঘাতে মিডল অর্ডার ভেঙে পড়ে। তবে অধিনায়ক শান্তর ৭৬ রানের সংগ্রহ এবং শেষ দিকে জাকের আলী অনিক ও নাসুম আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও ইনিংসে দলকে একটি প্রতিযোগিতামূলক স্কোরে নিয়ে যায়। নাসুম ২৪ বলে ২৫ রান করেন এবং জাকেরের কার্যকরী ৩৭ রানের ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশ ৫০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫২ রান তোলে।
আফগানিস্তানের চ্যালেঞ্জ ও বাংলাদেশের বোলিং আধিপত্য
২৫২ রানের লক্ষ্যে নেমে আফগানিস্তান প্রথম দিকে চাপের মুখে পড়ে। তাসকিন আহমেদ রহমানউল্লাহ গুরবাজকে আউট করে শুরুতে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন। এরপর সেদিকুল্লাহ আতাল এবং রহমত শাহ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন, তবে নাসুম আহমেদের বলেই এই জুটি ভেঙে যায়। পরবর্তীতে অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শহিদী ও রহমত শাহ ৪৩ রানের জুটি গড়লেও, নাসুমের এক ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তান ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায়।
হাসমতউল্লাহ আউট হওয়ার পর শরীফুল ইসলামের হাতে একেবারেই বাউন্ডারির কাছ থেকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক। এর পর নাসুমের বলে আজমতউল্লাহ সরাসরি বোল্ড হয়ে ফেরেন এবং রহমত শাহ হাস্যকর রানআউটের শিকার হন। এর ফলে বাংলাদেশ ৬ বলে আরও তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
শেষের আক্রমণ ও ঐতিহাসিক জয়
গুলবাদিন নাইব কিছুটা আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টা করেন এবং শরীফুলের এক ওভারে ১২ রান নেন। কিন্তু এরপরেই শরীফুলের বলে তিনি তাওহীদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। মোহাম্মদ নবী মিরাজের সুইংয়ের সামনে পরাস্ত হয়ে স্টাম্পড আউট হন, এবং শেষদিকে রশিদ খান মুস্তাফিজের স্লোয়ার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। নাসুম আল্লাহ গাজানফারকে বোল্ড করে আফগানিস্তানকে অলআউট করেন এবং ৬৮ রানের জয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম শারজাহ জয়ের ইতিহাস তৈরি হয়।
বাংলাদেশের প্রথম জয় ও সিরিজ সমতা
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ শারজাহ স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় এবং সিরিজে সমতা (১-১) ফিরিয়ে আনে। ১১ তারিখে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি সিরিজের ফয়সালা নির্ধারণ করবে, যা উভয় দলের জন্যই রোমাঞ্চকর হতে যাচ্ছে।
